১৩ই মে, ২০২১ ইং, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম :

১৬ একর জমির ধান নষ্ট, তবুও বন্ধ হয়নি ইটভাটা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এএনবি-২ ইটভাটায় আবারও পোড়ানো হচ্ছে ইট। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ইটভাটা চালু করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২০ মে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মঈনুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে তিন মাসের মধ্যে ভাটাটি সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন ইটভাটা স্থাপনের অপরাধে ভাটা মালিকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ওই সময় দুর্নীতি দমন কমিশন টাঙ্গাইল জেলার উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কোর্ট পরিদর্শক মো. বুলু মিয়া, এসি মো. সিরাজুল হক, টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম ও পরিদর্শক সজীব কুমার ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম ও তার আত্মীয় রেজাউল করিম বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় ১৭ একর আবাদি জমির ওপর এএনবি-২ ইটভাটা স্থাপন করেন। ভাটার তিন দিকে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি ও একপাশ নদীঘেঁষা। ভাটার মালিক সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন ছাড়াই ইট তৈরি করে ব্যবসা করে আসছিলেন। গত মে মাসে ভাটা থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় আশপাশের প্রায় ১৬ একর জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়। ভাটাসংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ফল নষ্ট হয়ে ঝরে যায়।

এ নিয়ে ১৪ মে জাগো নিউজে ‘ইটভাটার ধোঁয়ায় ১৬ একর জমির ধান নষ্ট, কৃষকের মাথায় হাত’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রশাসনের নজরে আসে। ২০ মে মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মইনুল হকের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন ও টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদফতরের একটি দল যৌথভাবে ইটভাটায় অভিযান চালায়। এ সময় আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন ইটভাটা স্থাপনের অপরাধে ভাটা মালিকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে ইটভাটা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গত ২০ মে ‘ধোঁয়ায় ১৬ একর জমির ধান নষ্ট, ইটভাটা সরানোর নির্দেশ’ শিরোনামে জাগো নিউজে আরেকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু এরপরও চলতি বছর ওই ভাটায় ইট তৈরি ও পোড়ানোর কাজ চালানো হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ইটভাটার ম্যানেজার জুয়েল রানা বলেন, কৃষকের ক্ষতি পুরণসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রায় ২০ লাখ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

ইটভাটার মালিক মো. আবদুর রহিম বলেন, ২০০ শতাংশ জমির মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের জন্য টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক একটি স্মারকে ১০ লাখ পিস ইট পোড়ানোর জন্য ২৮ অক্টোবর অনুমতি দেন। তবে ২০০ শতাংশের স্থলে ১৭ একর জমি ব্যবহার করে ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কারণ জানতে চাইলে নীরব থাকেন তিনি।

মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মইনূল হক বলেন, অনুমোদন ছাড়াই আবাসিক এলাকায় ওই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় ভাটার আশপাশের জমির ধান নষ্ট হওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। ওই সময় তিন মাসের মধ্যে ইটভাটা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এক লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছিল। চলতি বছর টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়েছেন ইটভাটা মালিক।

Share Button